শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগতম (পরীক্ষামুলক স¤প্রচার)

নির্বাচনকালীন সরকারের নতুন রূপরেখা দেবে বিএনপি




স্টাফ রিপোর্টার,
583
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতির বিষয়ে নতুন করে রূপরেখা দেবে বিএনপি। দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও দলের ‘থিংকট্যাংক’ হিসেবে পরিচিত কয়েক বিশিষ্টজন এই রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য এই রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো, উদ্ভুত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও দল-জোটের বর্তমান সাংগঠনিক শক্তির বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু মধ্যবর্তী বা আগাম নির্বাচনের দাবি আদায় করতে পারাকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দিচ্ছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে ‘নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা’র দাবি থেকে সরে নির্বাচনকালীন বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য একটি সরকার ব্যবস্থার ফর্মুলা তৈরীর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছে।

বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট গত কয়েক বছর ধরে যেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, সেখানে নতুন ভাবনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন স্বয়ং জোট প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। নিজের এতদিনের অনঢ় দাবি থেকে কিছুটা সরে গিয়ে গত ২৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বলবো না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। যে নামেই হোক, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। সব দলও তখন নির্বাচনে অংশ নেবে।’

এই বক্তব্যের এক সপ্তাহের মাথায় তত্ত্বাবধায়কের দাবি থেকে সরে আসার খবরে আপত্তি না করলেও গত ১ আগস্ট রাজশাহী জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের দাবি থেকে আমরা সরিনি, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়।’ সর্বশেষ, প্রায় সাত মাস পর গত ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও জোট প্রধান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে ২০ দল নির্বাচনে যাবে না। যে নামেই হোক, নির্বাচনকালীন সরকার হতে হবে নিরপেক্ষ।’ ২০ দল শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ গতকাল বৃহস্পতিবারও ইত্তেফাককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক এই তিনটি বক্তব্য তেমন কোনো সাংঘর্ষিক উপাদান রয়েছে বলে মনে করছেন না বিএনপির ‘থিংকট্যাংক’ খ্যাত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমাদ। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেন ‘নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যে এখনই উপসংহার টানার সময় আসেনি। যারা রাজনীতি করেন, দল বা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন-তাদেরকে রাজনৈতিক কৌশলগত কারণেও অনেক কথা বলতে হয়। আমি এখনও মনে করি, সরকারে কে থাকলো-তা মূল বিষয় নয়। সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে দ্রুত একটি অবাধ ও দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করাই মূল উদ্দেশ্য।’

প্রসঙ্গত, ২৫ জুলাই খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের পর ইত্তেফাকসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমকে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন বলেছিলেন, ‘নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ করা হলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল রেখেও নির্বাচন হতে পারে।’

১২ আগস্টে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এমাজউদ্দিনের এই বক্তব্য সম্পর্কে জোটের একটি শরিক দলের প্রধান জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘উনি একজন পণ্ডিত মানুষ। তিনি তার মতামত দিতেই পারেন’। জোটের বৈঠকে খালেদা জিয়ার এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে এমাজউদ্দিন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি-রাজনীতিকরা কৌশলগত কারণে অনেক কথা বলেন, তাদেরকে বলতে হয়।’

বিএনপি ও দলটির একাধিক চিন্তক এবং ২০ দলের বেশ কয়েকটি সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, বিএনপি এখন কার্যত ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’র দাবিতে আর অনঢ় নেই। এই দাবিকে সংশোধন করে বাস্তবভিত্তিক একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ চলছে। সেখানে দফায়-দফায় খালেদা জিয়ার মতামত বা পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ও দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষিদেরও পরামর্শ নিচ্ছেন রূপরেখা প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

সম্ভাব্য এই রূপরেখায় কী থাকছে, জানতে চাইলে এটি নিয়ে কাজ করছেন-এমন একজন ইত্তেফাককে জানান, সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষকরণ এবং নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনের সময় সরকার প্রধান কে থাকবেন, সরকারে কারা থাকবেন—এ নিয়ে বহুমত রয়েছে। সব মতের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সরকারের ফর্মুলা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কবে নাগাদ এই রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে, সে বিষয়ে জানা গেছে-আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে এটি প্রকাশ করার সম্ভাবনা কম। তবে ঈদের আগেই রূপরেখার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

২৮ আগস্ট অথবা ২ সেপ্টেম্বর লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া:

এদিকে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়ে সম্ভাব্য দুটি তারিখের কথা জানা গেছে। অধ্যাপক এমাজউদ্দিন জানান, সম্ভবত ২ সেপ্টেম্বর তিনি লন্ডন সফরে যেতে পারেন। আর ২০ দলের এক নেতা জানিয়েছেন, তিনি শুনেছেন ২৮ আগস্ট বিএনপি প্রধান লন্ডন যাবেন। তবে বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি মাসে তার লন্ডন যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এ বিষয়ে তারা জানান, ২৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন রয়েছে, যেটিকে বিএনপি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পরদিন ২৭ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিন নির্দিষ্ট রয়েছে। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এসব বিষয় বিবেচনায় ২ সেপ্টেম্বর-ই তার লন্ডন সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সম্পাদক: মিজান রহমান
প্রকাশক: বিএসএন মিডিয়া, এডিনবরা, স্কটল্যাণ্ড থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: