বাংলাস্কট নিউজ (ফাইফ, ২১/৪/২০২৬):
ফাইফ বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ও বাংলাস্কট নেটওয়ার্ক (বিএসএন) এর যৌথ উদ্যোগে স্কটল্যান্ডে প্রথম বাংলাদেশি নারী এমএসপি পদপ্রার্থী আফিফা বেগমের সাথে ডানফার্মলিনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় সমবার, ২০শে এপ্রিল ২০২৬ইং বিকেল ৭.৩০টা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আশিক মিয়া। বাংলা স্কট নেটওয়ার্কের (বিএসএন) ফাউন্ডার সাংবাদিক মিজান বহমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ফাইফ বাংলাদেশী এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাহেদ আহমদ।
মিজান রহমান বলেন, স্কটল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশী কমিউনিটির যথেষ্ট অবদান রয়েছে। শিক্ষা ও পেশাগত দিক দিয়ে কমিউনিটি এবং নতুন প্রজন্ম অনেকদুর এগিয়েছে। ৮০ এর দশক থেকে স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশী সংস্কৃতি প্রসারে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে চালু রয়েছে নানা কার্যক্রম চলমান। স্বাংলাদেশী কমিউনিটি কতৃক ১৫টি কমিউনিটি সংগঠন রয়েছে তন্মধ্যে রেজিস্টার্ড চ্যারিটির সংখ্যা ৯টি। ২০২২ সালের আদমশুমারি ও তৎপরবর্তী জনসংখ্যা ও অভিবাসন বৃদ্ধি হার পর্যালোচনা করলে বর্তমানে স্কটল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি জনগন বসবাস করছেন। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার ১২% হলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, যারা শ্বেতাঙ্গ স্কটিশ নন।
স্কটিশ পার্লামেন্টে সর্ব প্রথম বাংলাদেশী অরিজিন এমএসপি নির্বাচিত হন ২০২১ সালে। লেবার পার্টি থেকে লোদিয়ান অঞ্চলের লিস্ট প্রার্থী হিসেবে। ২০২২ সালে সর্ব প্রথম দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আবারডিন (লেবার) ও ফাইফ (এসএনপি) কাউন্সিলে। স্কটীশ পাবলিক লাইফ বা গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশী কমিউনিটির অংশগ্রহণ তুলনামূলক ভাবে কম।
স্কটল্যান্ডে প্রথম বাংলাদেশি নারী এমএসপি প্রার্থী আফিফা খানমকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান বক্তারা। মতবিনিময় সভার প্রশ্নোত্তর পর্বে আগতের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রেড ইউনিয়নের সিনিওর নেতা আফিফা খানম।
সাম্প্রতিক কালে এডিনবরা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রাইভেট হায়ার ও ট্যাক্সি ড্রাইভারদের উপর বর্নবাদী হামলা ও গাড়ী ভাংচুরের ঘঠনা আশংকাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আগতদের অনেকেই। অধিকাংশের মতে পুলিশ কতৃক ঘঠনা সমুহের তদন্তে দীর্ঘ সময় লেগে যায় । এরফলে প্রায়শই অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না।
উপরোক্ত প্রশ্নের জবাবে আফিফা খানম বাংলাদেশী প্রাইভেট হায়ার ও ট্যাক্সি ড্রাইভারদের যে সব পরামর্শ দেন সেগুলো হলোঃ
১. প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলে ৯৯৯ নাম্বারে কল করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া ।
২. ঘঠনা ঘটনার সাথে সাথে বিস্তারিত বিবরণ সহ পুলিশের কাছে রিপোর্ট বা সাধারন ডায়েরি করা । ঘঠনার সময়, স্থান ও হামলাকারীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ (পরিধেয় কাপড়, গায়ের রং, শব্দ, উচ্চতা, আনুমানিক বয়স, চুলের রং ও সাইজ ইত্যাদি) লিপিবদ্ধ করে রাখা। যদি কারো মনে হয় যে হামলাটি বর্নবাদী মনোভাব প্রসুত তাহলে সেটা স্পস্ট ভাবে পুলিশ কে বলুন। এক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন নেই, আপনার ধারণাই যথেষ্ট। পুলিশ সেটা তদন্ত করে বের করুক যে ঘঠনাটি বর্নবাদী নয়। হামলাকারী যদি আপনার পুর্ব পরিচিত কিংবা কোন বিরোধ না থাকে তাহলে হামলার একমাত্র মোটিভ হতে পারে বর্নবাদী হিংসা।
৩. আইনি সহায়তার জন্য যে কোন একটি ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হওয়া । প্রতি মাসে ১০-১৫ পাউন্ড চাঁদা পরিশোধ করতে হবে। যে কোন ঘটনায় ট্রেড ইউনিয়ন আপনার পক্ষে সবকিছু করবে। ২৪ ঘন্টা ফ্রি আইনী সেবা পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে স্কটিশ জিএমবি -স্কটল্যান্ড কিংবা ইউনাইট দ্য ইউনিয়ন
৪. যেসব ড্রাইভার লেবার পার্টির সদস্য তারা তাদের স্থানীয় এলাকার মাসিক সিএলপি র মিটিং এ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন । উক্ত মিটিং এ স্থানীয় কাউন্সিলর ও এমএসপি বৃন্দ উপস্থিত থাকেন। যারা বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট চাপ প্রয়োগ করতে পারেন ।
৫. গাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা সার্বক্ষনিক চালু রাখা যাতে শব্দ সহ পারিপার্শ্বিক এলাকা রেকডিং হয়।
৬. নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কখনই হামলাকারীকে ধাওয়া না করা। ঘটনার সাথে সাথে পরিচিত বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের সাথে তা শেয়ার করা।
উপরোক্ত ব্যাপারে বা ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হতে কারো কোন পরামর্শ প্রয়োজন হলে সরাসরি উনার সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন আফিফা খানম। তিনি এ ব্যাপারে স্কটিশ পার্লামেন্টে একটি অভিযোগ উত্থাপন করতে আগ্রহী।
ফাইফ এলাকায় কয়েকযুগ ধরে বসবাসরত আফিফা খানম শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি স্কটীশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে অসামান্য ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন।
মানুষের অধিকার, ন্যয্যতা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য বিরোধী কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। রাজনীতির মাধ্যমে সমাজে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে আগ্রহী।
আফিফা খানম বলেন, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। একসাথে মিলেমিশে কাজ করার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা মোকাবেলা ও সফলতা অর্জনে প্রচন্ড রকম ভাবে আত্মবিশ্বাসী আফিফা। নিজের জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রাম মোকাবেলায় অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান গোলাপগঞ্জের মেয়ে আফিফা।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল ড. ওয়ালি তসর উদ্দিন এমবিই, সুলেমান খান, সবুর খান, শাহ হক বাবু, বাংলাদেশী সটুডেন্ট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট বদরুল হোসেন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ফাইফ বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভায় আগতদের ধন্যবাদ আশিক মিয়া।






