বাংলাস্কট রিপোর্ট (১২ মার্চ ২০২৬):
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবীণ ব্যক্তি নাসির আহমদ রনির হত্যা মামলার রায় দিয়েছে এডিনবরা হাইকোর্ট।
ফেরি রোডে অবস্থিত একটি বাংলাদেশী টেকঅ্যাওয়ের সামনে ২০২৪ সালের ১০ই মার্চ রাত ৮.৩০ ঘটিকায় হামলার শিকার হন নাসির আহমদ রনি । আদালত সুত্রে জানা যায়, ৪০ বছর বয়স্ক ড্যানিয়েল স্প্রিংগার (৪০) বাস স্টপে দাড়ানো নাসির আহমদ এবং টেকওয়ের অন্য কর্মীর ওপর হামলা চালায়। এসময় নাসির আহমদ রনি অসুস্থ ছিলেন এবং নানাবিধ রোগে ভুগছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্যানিয়েল স্প্রিংগার নাসির আহমেদকে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ ২০২৪ইং সকাল ৯টা মৃত্যুবরন করেন এবং ৪ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এডিনবরায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। নাসির আহমদ রনির মৃত্যুতে এডিনবরার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে নেমে আসে শোকের ছায়া।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ড্যানিয়েল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বিচার চলাকালে আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়।
তবে জুরি বোর্ড নাসির আহমেদের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তকে সরাসরি দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে কালপেবল হোমিসাইড বা হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে আদালত। স্কটিশ আইন অনুযায়ী কালপেবল হোমিসাইডের অর্থ হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ভাবে বা পরিকল্পিত ভাবে কাউকে হত্যা না করা।
তবে একই ঘটনায় নাসির আহমদের সাথে থাকা আরেক বাংলাদেশির ওপর গুরুতর হামলার দায়ে ড্যানিয়েল স্প্রিংগারকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, অভিযুক্তের আগের অপরাধের ইতিহাস দেখে বোঝা যায় তিনি পূর্বের শাস্তি থেকে কোনো শিক্ষা নেননি।
জানা গেছে, ড্যানিয়েল স্প্রিংগারের বিরুদ্ধে অতীতে হত্যা, ডাকাতি ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধসহ মোট ১৯টি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। ইতিপুর্বে ড্যানিয়েলকে দুটি হামলার ঘটনার গ্লাসগোর শেরিফ কোর্ট তাকে জামিন দেয় পরে সেসব হামলা দায়ে তার জেল হয়। ২০০৭ সালে সাউথ লন্ডনে অপর একটি হত্যা মামলায় ড্যানিয়েলের ১২ বছরের জেল হয়।
ঘটনাটি স্কটল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রায় সম্পর্কে কমিউনিটির অনেকেই ক্ষুদ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
নাসির আহমদ একসময় পতুর্গাল ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এডিনবরায় বসবাস করে আসছিলেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ছিলেন একজন স্নেহশীল বাবা এবং কমিউনিটির সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে।মৃত্যুকালে তিনি ৫ সন্তান ও স্ত্রী রেখেন গেছেন। দেশের বাড়ী ঢাকার নারায়নগঞ্জ জেলায়।



