মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাগতম (পরীক্ষামুলক স¤প্রচার)

স্কটল্যান্ডে করোনা ভাইরাস (বিস্তারিত)

Sex Cams

ডান্ডি থেকে লড়বেন তানভির আহমদ: স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত এমএসপি প্রার্থী




বাংলাস্কট রিপোর্ট (এডিনবরা, ০৭/০৪/২০২৬):

স্কটল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের একটি মুখ হিসেবে উঠে আসছেন তানভীর আহমদ। আসন্ন স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিনি ডান্ডি সিটি ইস্ট আসন থেকে স্কটিশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের প্রার্থী এবং একই সঙ্গে নর্থ ইস্ট স্কটল্যান্ড অঞ্চলের আঞ্চলিক তালিকা প্রার্থী (Regional List Candidate) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তানভির আহমদের জন্ম ঢাকার গোপীবাগে। ঢাকার ইউনিভার্সিটি ইন্জিনিয়ারিং হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিষয়ে থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

তানভির আহমদ ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং  ডান্ডিতে বসবাস শুরু করেন ২০০৫ সালে। বাংলাদেশে থাকাকালীন তিনি যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যাবসায় উদ্যেক্তা হিসাবে ডায়াল-আপ ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করেন। ইউকের ব্রিটিশ টেলিকম (বিটি) কোম্পানীতে প্রোডাক্ট ডেভলাপ ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন ১৫ বছর। টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের ফলে তিনি টেকনলজি সার্ভিস বিষয়ক প্রতিষ্টান স্থাপন করেন।বর্তমানে তানভির আহমদ ভোডাফোনে প্রডাক্ট ডেভলাপ টিমে কর্মরত আছেন। ইতিপুর্বে তিনি ব্রিটিশ রয়েল নেভীর রিজর্ভিস্ট হিসাবে কাজ করেছেন। ডান্ডি ইউসুফ ইয়ুথ সেন্টারের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করেছেন দুই বছর।

তানভির আহমদ ছাত্রাবস্থা থেকেই সামাজিক ও সাংস্কুতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি এয়ার ক্যাডেট এবং স্কুলের ডিবেটিং ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তানভীর আহমদ ২০০০ সালে লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি অ্যাঙ্গাস অ্যান্ড মিয়ার্নস লিবারেল ডেমোক্র্যাটস-এর নির্বাহী সদস্য এবং একই সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের ফেডারেল ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস কমিটির সদস্য। এই কমিটির মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক নীতি, বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত পলিসি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তানভির আহমদ নানাবিধ চ্যারিটিবল কার্যক্রমের সাথে জড়িত। তিনি বিবিসির চিলড্রেন ফর নিড এবং একশন ফর চিলড্রেন প্রজেক্টের জন্য ফান্ড রেইজিং করেছেন।

তানভির আহমদ রাজনীতিতে এসেছেন একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে, তার লক্ষ্য হচ্ছে ডান্ডি এবং বৃহত্তর নর্থ ইস্ট স্কটল্যান্ড অঞ্চলের মানুষের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের জীবনমান উন্নত করা।তানভীর আহমদ মনে করেন, নর্থ ইস্ট স্কটল্যান্ড অঞ্চলটিও সম্ভাবনায় ভরপুর। ডান্ডি, অ্যাবারডিন, অ্যাঙ্গাস এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিক্ষা এবং ব্যবসার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।তাঁর মতে, আধুনিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল ও প্রযুক্তি বিষয়ক খাতগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে, ব্যবসাকে শক্তিশালী করে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

ডান্ডি সিটি ইস্ট থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তানভীর আহমদ বলেন, ডান্ডি একটি সম্ভাবনাময় শহর। প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং সৃজনশীল শিল্পে ডান্ডি ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে স্থানীয় মানুষের জীবনে বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন চিন্তা ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন।

তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং ডান্ডির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাশ করা তরুণরা যেন এই শহরেই সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করা। তিনি আরও মনে করেন, স্কটল্যান্ডের মাল্টিকালচারাল সমাজ তার সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষ একসঙ্গে কাজ করেই স্কটল্যান্ডকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।

আসন্ন স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তানভীর আহমদ বলেন, তিনি স্থানীয় জনগণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে একযোগে কাজ করে ডান্ডি এবং নর্থ ইস্ট স্কটল্যান্ড অঞ্চলের জন্য একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান। তানভীর আহমদের প্রত্যাশা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা যেন আরও বেশি করে জনজীবন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে।

তাঁর মতে, স্কটল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি শিক্ষা, ব্যবসা এবং পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তিনি আশা করেন, আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি তরুণরা আরও বেশি করে নেতৃত্বের ভূমিকায় এগিয়ে আসবে এবং স্কটল্যান্ডের জনজীবনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, ডান্ডির সাথে বাংলাদেশের রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসুত্র। এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটি গোড়া পত্তন হয় ৬০ এর দশকে। তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের নাগরিক হিসাবে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং পড়তে অনেকেই আসেন ডান্ডিতে।  একসময় তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল ডান্ডি শহর। ১৮৩৮ সালে এখানে গড়ে ওঠে পাট নির্ভর তাঁতশিল্প। উনিশ শতকের মধ্যভাগে ডান্ডিতে ১৫০ টি পাটকলে কাজ করে প্রায় ৪০ হাজার স্থানীয় লোকের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ হত। এরফলে পাটশিল্পের জন্য পুরো ইউরোপের মধ্যে জন্য ডান্ডি হয়ে ওঠে একটি বিখ্যাত শহর। এই শিল্পের প্রধান কাচামাল পাট আসত বাংলাদেশ থেকে। ব্রিটিশ শাষনামলে বাংলার পুরো পাট শিল্প ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নিয়ন্ত্রনে। ঢাকার নারায়নগঞ্জের আদমজী জুট মিলে উৎপাদিত পাটের পুরোটাই আসত ডান্ডিতে।

এ কারনে নারায়নগঞ্জ শহরটি আজও লোকমুখে বাংলার ডান্ডি বলে পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে সর্বশেষ পাট বোঝাই জাহাজ বাংলার উর্মি ১৯৯৮ সালে ২০ অক্টোবর নোঙর করেছিন ডান্ডি বন্দরে। প্রযুক্তি ও গবেষনা ক্ষেত্রে উন্নতির ফলে বর্তমানে ডান্ডিকে বলা হয় সিটি অব ডিসকভারি। ডান্ডি বাংলাদেশী কমিউনিটির নতুন প্রজন্ম শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যন্য শহরের বাংলাদেশী কমিউনিটির চেয়ে তুলনামুলক ভাবে অনেকদুর এগিয়ে আছেন। ডাক্তার ও ইন্জিনিয়ারিং পেশায় যুক্ত আছেন এখানকার শতাধিক নতুন প্রজন্ম।

আসন্ন নির্বাচনে ডান্ডি সিটি ইস্ট আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। তারা হলেন, পিটার অ্যাসবি – ওয়ার্কারস পাটিং অব ব্রিটেন, শেরিল অ্যান ক্রুইকশাংক- লেবার পার্টি, জ্যাক ক্রুইকশাংক – কনসারভিটিভ, স্টিফেন গেথিনিস – স্কটিশ ন্যাশন্যাল পার্টি, ডোনাল্ড ম্যাকলয়েড- স্কটিশ ট্রেড ইউনিয়নিস্ট এন্ড সোশ্যালিস্ট কোয়ালিশন, মার্ক সিম্পসন- রিফর্ম ইউকে।

প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্যের জন্য এই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন:

https://whocanivotefor.co.uk/elections/sp.c.dundee-city-east.2026-05-07/dundee-city-east/

তানভির আহমদের ক্যাম্পেইন সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পেতে ফলো করুন তাঁর ফেইসবুক পেজ: এখানে ক্লিক করুন

সম্পাদক: মিজান রহমান
প্রকাশক: বিএসএন মিডিয়া, এডিনবরা, স্কটল্যাণ্ড থেকে প্রচারিত

সার্চ/খুঁজুন: